খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

ছবিতে প্রতিযোগিতায় অংগ্রহনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন :

আন্তর্জাতিক ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম (ইউএআরটি)।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের কোনো দল হিসেবে পোডিয়ামে স্থান করে নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে ইউআইইউ’র ইউএআরটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, রোবোটিক্স ও ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এসইউএএস প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব গত ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় দলগুলো অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়া, উচ্চ বাতাসের গতি এবং তাপমাত্রাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগত সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করে ইউআইইউ’র ইউএআরটি এবং অর্জন করে বিশ্বে চতুর্থ স্থান।
৮১ দলের প্রতিযোগিতায় চতুর্থ ইউআইইউ
২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এসইউএএস প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থীভিত্তিক আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত।
এবারের প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮১টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬৭টি দল চূড়ান্ত পর্বের ফ্লাইং প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তী ধাপে ৬৪টি দল ফ্লাইট রেডিনেস অনুমোদন পায়। শেষ পর্যন্ত ৫৮টি দল প্রতিযোগিতার ফ্লাইট পরিচালনায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার দিন প্রতিকূল আবহাওয়া অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রাজনিত সমস্যার কারণে ফ্লাইট পরিচালনাকারী দলগুলোর মধ্যে ২১টি দল ক্র্যাশের শিকার হয়।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও ইউআইইউ’র ইউএআরটি দ্রুত কৌশল পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় করে তাদের নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এসইউএএস ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়।
এসব প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ইউআইইউ’র ইউএআরটির চতুর্থ স্থান অর্জন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় মিশনে বিশেষ সাফল্য
প্রতিযোগিতায় ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম সেফটি ইন্সপেকশন ও র‌্যাপিড রেসপন্সে পূর্ণ নম্বর অর্জন করেছে।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় ইউএআরটি একমাত্র দল হিসেবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন সম্পন্ন করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দলটির তৈরি স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেলে রয়েছে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, আকাশপথের মানচিত্র তৈরি, বস্তুর শনাক্তকরণ, পে-লোড সরবরাহ, বাধা শনাক্ত ও তা এড়িয়ে চলার সক্ষমতা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই প্রযুক্তিগুলোর সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশেও নির্ধারিত মিশন পরিচালনা ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় ইউআইইউ’র দলটি।
দীর্ঘ গবেষণা ও প্রকৌশল উন্নয়নের ফল
ইউএআরটির এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা, নকশা প্রণয়ন, প্রকৌশল উন্নয়ন, নির্মাণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ধারাবাহিক পরিমার্জনের সমন্বিত প্রচেষ্টা।
দলটির সদস্যরা স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল তৈরি ও এর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করেছেন। নেভিগেশন থেকে শুরু করে অবজেক্ট ডিটেকশন, ম্যাপিং, পে-লোড ডেলিভারি এবং বাধা এড়িয়ে চলার মতো জটিল প্রযুক্তি একই প্ল্যাটফর্মে সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বাস্তব পরিবেশে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তন ও উচ্চ বাতাসের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের সক্ষমতাও কাজে লাগিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
ইউআইইউ’র ইউএআরটির এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ ফ্যাকাল্টি নির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সমন্বিত প্রয়াসে বাংলাদেশও বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে—ইউএআরটির অর্জন তার একটি উদাহরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়টির এ সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমসের মতো দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জনের মাধ্যমে ইউআইইউ’র ইউএআরটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেনি, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

যোগফল ডেস্ক 

পীরগঞ্জে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পীরগঞ্জে  "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

মো. আরফান আলী | পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 

পীরগঞ্জে গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ নভেম্বর বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পীরগঞ্জে শিশুদের সূরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুড নেইবারস বাংলাদেশ, পীরগঞ্জ সিডিপির (Pirganj CDP) আয়োজনে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বারে  প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—"শিশুর সুরক্ষা, আমাদের অঙ্গীকার"।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী সরদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেণ ঠাকূরগাঁও -৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান,  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউর ইসলাম জিয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াসমিন, প্রমুখ।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং তাদের সুরক্ষায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তা, সুধীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।